রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী।। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহরগুনছে মরণব্যাধী ডিএমডি রোগে আক্রান্ত আমতলীর পাঁচ বছরের শিশু মোঃ জুনায়েত হোসেন। চিকিৎসকরা ভারতে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। হত দরিদ্র বাবার পক্ষে তার চিকিৎসা করানো সম্বব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের ধনাট্য ব্যক্তিদের সহযোগীতা কামনা করেছেন পরিবার।
জানাগেছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের লিটন হাওলাদারের একমাত্র শিশুপুত্র জুনায়েত হোসেন। গত এক বছর আগে তার শরীরের পরিবর্তন দেখা দেয়। তার দু’পায়ের হাটু মোটা হয়ে আস্তে আস্তে হাত পা শুকিয়ে রগ খিচুনী দিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে। বাবা লিটন তার সাধ্যমত চিকিৎসা করিয়েছেন কিন্তু কোন চিকিৎসাই কাজে আসছে না। ডাক্তাররা এ লক্ষণ দেখে সনাক্ত করেছেন এটা মরণব্যাধী ডিএমডি রোগ। বর্তমানে শিশুটি তেমন হাটাচলা করতে পারছে না। সন্তানদের বাচাঁনোর জন্য বহু চিকিৎসক ও ওঝার কাছে ধর্না দিয়ে কোন কাজ হয়নি। বর্তমানে শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। জুনায়েতের হাত-পা চিকন হয়ে শুকাতে শুরু করেছে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বাঁকা হয়ে যাচ্ছে। বাব-মা রোগের নাম শুনে হাল ছেড়ে দিয়ে ছেলের মুত্যু দেখার অপেক্ষায় আছে। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন কিন্তু পরিবার অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। দুরারোগ্য এ ব্যাধীতে আক্রান্ত হওয়ায় বাবা মা দিশেহারা। একমাত্র শিশুর এ অবস্থায় কান্না যেন তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাতে অন্তত ২০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এতো টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানো পরিবারের পক্ষে সম্ভব না। ইতিমধ্যে হতদরিদ্র বাবা কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের ধনাট্য ব্যক্তিদের সহযোগীতা কামনা করেছেন শিশুটির পরিবার। তাকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা বিকাশ নম্বর-০১৭৭০৫৭৬৫১১, শাহাজালাল ব্যাংক আমতলী শাখায় তার হিসাব নম্বর-২০০৩১২১০০০০১৭৪৯।
শিশুটির মা কামরুন্নাহার পপি কেঁদে বলেন, আমার একমাত্র শিশুটি ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। আমি কিভাবে ছেলের চিকিৎসা করাবো। আমি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের ধনাট্য ব্যক্তিদের কাছে সহযোগীতা কামনা করছি।
শিশুটির বাবা লিটন হাওলাদার বলেন, ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জীবনের সকল সহায় সম্বল শেষ করেছি। এখন আর পারছি না। চিকিৎসরা পরামর্শ দিয়েছে ভারতের নিয়ে চিকিৎসা করাতে। এতে অন্তত ২০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এতো টাকা দিয়ে চিকিৎসা করানো আমার মত হতদরিদ্র মানুষের পক্ষে সম্ভব না। আমি দেশ দরদি মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য কামনা করছি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, এটি একটি বিরল ও জীন গঠিত রোগ। বংশানুক্রমিকভাবে এ রোগ হয়। এ রোগের নাম ডিএমডি (ডুশেন্স মাসকুলার ডিসট্রেফি)। শিশুটির চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com
Leave a Reply